ছয় সপ্তাহ আগে নিউজিল্যান্ডের গোল্ডেন ভিসা প্রকল্পে শিথিল শর্ত কার্যকর হয়েছে। এরই মধ্যে অভিবাসনের বিশেষ এ সুবিধা পেতে আবেদন বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশির ভাগ আবেদন এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর এফটি।
নিউজিল্যান্ডের ক্রিস্টোফার লুক্সনের সরকার বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গত ফেব্রুয়ারিতে ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল করে। এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মে ইংরেজি ভাষার শর্ত তুলে দেয়ার পাশাপাশি ‘গ্রোথ ভিসা’য় বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা কমিয়ে ৫০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার বা প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার করা হয়েছে।
আগের নিয়মে গোল্ডেন ভিসা পেতে নিউজিল্যান্ডে তিন বছর বসবাস করতে হতো, এখন ২১ দিন থাকলেই স্থায়ী আবাসিক মর্যাদা পাওয়া যাচ্ছে। গড় আবেদন প্রক্রিয়াও কমিয়ে আনা হয়েছে ১১ দিনে। এছাড়া ‘ব্যালান্সড ভিসা’ নামে আরো একটি বিকল্পে ১ কোটি ডলারের বিনিময়ে আবাসনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, নতুন নিয়ম চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫টি নতুন আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ৫৫টিই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। হংকং ও চীন থেকে কিছু আবেদন এসেছে। নিয়ম শিথিলের আগের আবেদন মিলিয়ে ১০৪টি আবেদন জমা হয়েছে, যার মধ্যে ৪২টি অনুমোদন পেয়েছে। এ কর্মসূচি থেকে মোট বিনিয়োগ দাঁড়াতে পারে ৬২ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার।
পরামর্শক সংস্থা ন্যাশ কেলি গ্লোবালের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক অভিবাসনমন্ত্রী স্টুয়ার্ট ন্যাশ গত বছর বলেছিলেন, হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিরে আসা অনেক ধনী মার্কিনকে বিদেশে বসবাসের আশ্রয় খুঁজতে উৎসাহিত করেছে। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ আবেদনকারী ট্রাম্পের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিপরীতমুখী। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ইউরোপে যেমন ভিসা প্রোগ্রাম বন্ধ হচ্ছে, তেমনি নিউজিল্যান্ডকে এখন অনেকেই নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখছে।’
২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন নিউজিল্যান্ডে বিনিয়োগভিত্তিক ভিসা কঠোর করেছিলেন। এরপর বিদেশীদের জমি ও বাড়ি কেনার ওপরও বিধিনিষেধ আসে। লুক্সন সরকার সে বিধিনিষেধ শিথিল করছে। বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে মার্চে এক উচ্চ পর্যায়ের বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন করা হয়, যেখানে ব্রুকফিল্ড, ম্যাককোয়ারি ও আবেরডিনের মতো বড় প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
তবে এখনো বিদেশীদের সম্পত্তি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়া হয়নি নিউজিল্যান্ডে। জোট সরকারের অংশীদারদের আপত্তির মুখে সে পরিকল্পনা থেমে আছে। বর্তমানে শুধু নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী বাসিন্দা, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের দেশটিতে সম্পত্তি কেনার অনুমতি রয়েছে।